অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ছাতক-সিলেট রেলপথ; অরক্ষিত কোটি টাকার সম্পদ


নিজস্ব প্রতিবেদক (প্র.বার্তা): অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ছাতক-সিলেট ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে। সংস্কারের অভাবে যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কিছু দিন আগের বন্যার পানির তীব্র স্রোতে রেললাইনের অধিকাংশ স্থানে স্লিপারের নিচের মাটি ও পাথর সরে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। রেলের স্লিপারের নিচের পাথরগুলো রাস্তার পাশে বিশাল স্তুপ হয়ে পড়ে রয়েছে।
করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ থেকে এই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এর মধ্যেই চলতি বছরের ১৬ জুন ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে বন্ধ এ রেলপথটি যেন এখন ধ্বংসস্তূপ। এর ফলে এ রুটে পুনরায় রেল চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে বন্যার পানি কমে গেলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় রেলপথের কোটি টাকার সম্পদ এখন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এ রুটে যাতায়াতকারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আফজলাবাদ রেলস্টেশন থেকে ছাতকবাজার পর্যন্ত রেল লাইনের অবস্থা খুবই নাজুক। এছাড়া স্লিপার ও কাঠ চুরি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও অরক্ষিত এ রেললাইনের পাশে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ করে ভাড়া, বালুর স্তুপ রেখে ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রেল গেইট সংলগ্ন ৩৯৮/৩ থেকে ৪ এর সীমানায় রেলের জায়গায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ৫টি অর্জুন গাছ কাটা হয়েছে। ছাতক বাজার রেল কলোনীতে ২৩টির বেশি পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করছে। রেলের জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে রাখা হয়েছে বিশাল বালুর স্তুপ।
জানা যায়, ১৯৫৪ সালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পশ্চিম-উত্তরে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাথর, বালু, চুনাপাথর ও কমলাসহ মালামাল আনা-নেওয়ার জন্যই ১৯৫৪ সালে সিলেট-ছাতক রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এর আগে এটি ছিল আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
রেল বিভাগের সিলেটের আইডব্লিউর সুপারভাইজার শহিদুল ইসলাম বলেন, কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গায় গাছ কাটার কোনো বৈধতা নেই। এছাড়া গেইটম্যান কর্তৃক অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া নেওয়ার বিষয়গুলোসহ অন্যান্য বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।