চিকিৎসকদের পদবীর বিষয়টি সূরাহা হয়েছে এবার প্রকৌশলীদের পদবীর সুরাহা হোক


প্রকৌশল পেশা একটা সম্মানজনক এবং অর্থনৈতিকভাবে দিক থেকেও লাভজনক পেশা। ফলে স্বভাবতই প্রকৌশল পেশার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং পাস না করেই নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার হিড়িক আমাদের দেশে প্রবল এবং গুরুতর একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। যদিও মেডিকেল সেক্টরের মতো ডিপ্লোমা ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী ধারীদের এ নিয়ে মত পার্থক্য রয়েছে।
চিকিৎসা পেশা নিয়েও নানা জাল জালিয়াতি আমাদের দেশে বিদ্যমান। ফলে নামকা ওয়াস্তে কেউ কেউ কোন মতে চিকিৎসা সংক্রান্ত একটা কোর্স করেই নামের পূর্বে ডাক্তার বসিয়ে রোগীর চিকিৎসা করে যাচ্ছে। এতে বহু মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। যার ফলে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ালে নামের পূর্বে ডাক্তার লিখতে হলে এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি লাগবে বলে গত ১২ মার্চ বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১৩ সালের এক রিটের বিপরীতে এই রায় প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন হয়। ‘ডিএমএফ’ ডিগ্রিধারীদের (ডিপ্লোমাধারী হিসেবে নিবন্ধিত) ক্ষেত্রে আইনটির বৈষম্যমূলক প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন আহ্বায়ক শামসুল হুদাসহ অন্যরা ২০১৩ সালে রিটটি করেন। ফলে হাইকোর্টের রায়ের ফলে এখন থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করলে আইনত তা দন্ডনীয় অপরাধ।
প্রকৌশল পেশার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের শীর্ষ সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর সদস্য ব্যতীত কেউ নামের পূর্বে প্রকৌশলী পদবী ব্যবহার করার সুযোগ নেই বলে অভিমত জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে মেডিকেল সেক্টরের মতো ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাসকৃত প্রকৌশলীদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। যদিও দীর্ঘ বিতর্কের পর গত বছর পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি স্নাতক সমমান দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
যেহেতু ডাক্তারদের বিষয়টি সুরাহা হয়েছে তাই আমরা প্রত্যাশা করি ইঞ্জিনিয়ারদের পেশার মর্যাদা রক্ষার্থে এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষার্থে উক্ত বিষয়টিও সুরাহা হওয়া দরকার।
প্রকৌশলী পদবীর বিষয়টি সুরাহা হোক